চট্টগ্রামের রাউজানে তিন দিনের ব্যবধানে আবারও এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই বিএনপি কর্মীর নাম নাছির উদ্দীন (৫৫)।
রোববার দিবাগত রাতে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শমশের পাড়ায় লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই হামলার শিকার হন তিনি।
সোমবার (২৭ এপৃল) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশের ধারণা, মাটি ও পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাছিরকে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউজান থেকে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি গুলি পেটে বিদ্ধ হওয়ায় তার অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি বিতর্কিত কর্মকান্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকমাস আগে নাছিরকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল। সেইবার আশঙ্কাজনক হাসপাতালে ভর্তির পর দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়েছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় মাটিকাটা, পাহাড় কাটা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাছির উদ্দীনের সঙ্গে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম নামের এক ব্যক্তির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার পেছনে সেই বিরোধের জের থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাছির উদ্দীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত দুদু মিয়া (প্রকাশ দুইধ্যা মধু)। একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নাছির। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। নাছির বিএনপি নেতা ও রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, নাছির উদ্দিন যুবদলের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করছি। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কদলপুর ইউনিয়ন বিএনপির হাফেজ আবুল হাসেম এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এর আগে ২৫ এপৃল শনিবার ভোরে রাউজান পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় কাউসারুজ্জামান (৩৬) নামে বিএনপির এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পেশায় তিনি একজন কৃষক ছিলেন। নিহতের পরিবারের দাবি, গত দুই বছরে কাউসারুজ্জামানের ওপর একাধিকবার হামলা হয়। এলাকায় অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে রাউজান। রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়ে উপজেলাটিতে একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনা চলছেই। এ সময়ে রাউজানে অন্তত দেড় ডজনেরও বেশি হত্যাকান্ড ঘটেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই হত্যাকান্ড রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে। বাকিগুলো ঘটেছে পারিবারিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও দখলকে কেন্দ্র ধরে।